সাপ্তাহিক চাকরির খবর সবার আগে

বাসায় এসে লক্ষ করলাম মেয়েটি পূরো ভিজে গেছে যার জন্য সে শীতে কাঁপতেছে

বৃষ্টির কারনে অফিস থেকে ফিরতে আজ অনেক রাত হয়ে গেলো। রাত প্রায় ১২টা ছুঁই ছুঁই। বৃষ্টির কারনে কোন গাড়ী না পেয়ে হেটে হেটে বাড়িতে আসতে লাগলাম।খুব ক্ষুদা লেগেছে কিন্তু কোন দোকানই খোলা নেই।যাই হোক ভিজে ভিজে আমাদের বাসার কাছে একটা দোকান আছে সেখানে আসলাম।কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো দোকান বন্ধ।

তাই আবার হাটা শুরু করলাম।হঠাৎ করে লক্ষ করলাম দোকানের বেঞ্চিতে কেও একজন বসে আছে।দূর থেকে কিছু বুঝা যাচ্ছে না।শুধু কালো জামা গায়ে তাই দেখা যাচ্ছে।আমি অনেকটা ভয় পেয়ে গেলাম।কারন এতো রাতে এখানে ভুত পেত্নী ছাড়া আর কে আসতে পারে।কিন্তু ভয়কে জয় করে বুকে থুথু দিয়ে সেখানে গিয়ে দেখলাম কেও একজন কালো বোরখা পড়ে অন্যদিকে মুখ করে বসে রইছে।তাই আমি জিজ্ঞাস করলামএই যে কে আপনি!

কোন উত্তর না পেয়ে জিজ্ঞাস করলাম।এই যে কানে শোনেন না নাকি, কে আপনি আর এতো রাএখানেই বা কি করছেন অতঃপর সে মুখ খুললো আর বললো আসসালামু আলাইকুম তার কন্ঠ শুনে আর পোশাক দেখে বুঝলাম সে মেয়ে,তাই আবারো জিজ্ঞাস করলাম কে আপনি?

আপনি জানেন না সালাম দেওয়া নেওয়া আপনার উপর ওয়াজিব করা হইআমি তার কথাশুনে ভ্যাবাচেক হয়ে গেলাম। আসলে আমি খুব বিপদে পড়ছি, আমাকে কি আজকের রাত টুকু আপনার বাসায় থাকতে দেওয়া যাবে আমি মনে মনে বলি বেপার কি,এতো রাতে একটা মেয়ে আমার কাছে সাহায্য চাইছে, আবার আমার বাসায় থাকতে চাইছে,জজ্ঞী বা রোহিঙ্গা নয়তো, যদি একা বাসায় আমাকে মেরে টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়,কিন্তু দেখে তো মনে হচ্ছে ভদ্র, পর্দাশিল।

আমার চিন্তা ভাবনার অবসান ঘটিয়ে সে বললো কি ভাবছেন! আর তো মাত্র কয়েকঘন্টআছে,তারপর সকাল হলেই আমি আপনার বাসা থেকে চলে যাবো, আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারেন আমি আপনার কোন ক্ষতি করবো না,শুধু রাতটুকু থেকেই কাল সকালে চলে যাবো।

আসলে হইছে কি জানেন?আমি আমার বাসায় একাই থাকি তাই আপনার যদি কোন আপত্তি না থাকে তাহলে আমার বাসায় থাকতে পারেন।কেনো জানি মেয়েটার প্রতি খুব মায়া হলো তাই তার প্রস্তাবে রাজি হলাম না আমার কোন আপত্তি নেই।আমি আপনার প্রতি বিশ্বাস অর্জন করে আপনার বাসায় যেতে চাইছি।

তাই আমিও চাই আপ্নিও আমার বিস্বাশের মর্যাদা রক্ষা করে আমার কোন ক্ষতি করবেন না  মেয়েটার কথায় আমি লজ্জা পেয়ে বললাম।আরে না আমি আপনার কোন ক্ষতি করবো না।আমার উপর পূরুপুরি বিশ্বাস রাখতে পারেন।

বাসায় এসে লক্ষ করলাম মেয়েটি পূরো ভিজে গেছে যার জন্য সে শীতে কাঁপতেছে আমি আর দেরি না করে আমার আলমারি থেকে মায়ের একটা বোরখা বের করে এনে তাকে দিলাম।আমার মা আর বোন কিছুদিন পরপর আমার এখানে আসে তাই তাদের কিছু জামাকাপড় আমার আলমানিন আপনি বাথরুমে গিয়ে বোরখা পরে আসুন,আমি বাহিরে অপেক্ষা করছি।

মেয়েটি কোন কথা না বলে বাথারুমে চলে গেলেন, কিছুক্ষণ পর সে বোরখা পরে যথাযথ পর্দা করে বের হলেন আর তার বোরখাটি বেলকনিতে শুকানোর জন্য দিলেন।আমিও বাথরুমে গিয়ে জামাকাপড় চেঞ্জ করে আসলাম।বের হয়ে দেখি মেয়েটি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে কি যেনো ভাবছে আমি তার পাশে দাঁড়িয়ে কাশি দিতেই সে চমকে উঠলো।

এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেনো!রুমে চলুন এমনিতেই অনেক রাত তার উপর বৃষ্টি না আমি এখানেই ঠিক থাকতে পারবো, আপনি বরং গিয়ে ঘুমিয়ে পরুন ঘুম আসছে না তো(সে আমার কথা শুনে কেমন যানি করলো মনে হয় ভয় পেয়েছে) তার ভয় দূর করতে বললাম,খুব খুদা লাগছে,আপনার ও নিশ্চয় খুব খুদা লাগছে সে মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক উত্তর দিলো।

তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে রুমে গিয়ে বসুন আমি রান্না করে নিয়ে আসি।ক্ষুধায় আর সহ্য করতে পারছি না।আর সব দোকান এখন বন্ধ,তাই বাহিরে থেকে খাবার আনার কোন সুযোগ নাই।যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আজকে না হয় আমিই রান্নাটা করে দেই! আরে আপনি রান্না করবেন কেনো,আমি মোটামুটি রান্না পাড়ি, আপনি আমার মেহমান, আমিই করতে পারবো।

আরে তাতে কি হইছে,আপনি আমাকে সাহায্য করলেন আর আমি কি আপনাকে রান্না পারবো না,আর আপনি মনে হয় সারাদিন অনেক কাজ করছেন,তাই প্লিজ আমাকেই রান্নাটা করতে দিন আমি আর তার কথায় না করতে পারলাম না।তাকে রান্নার জিনিষ পত্র বুঝিয়ে দিলাম।আর সে রান্না ঘরে গিয়ে রান্না বসিয়ে দিলো আমি তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছি।

আপনার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আপনি রুমে যেতে পাড়েন। আমি একাই রান্না করতে পারবো।
তার কথাশুনে একটু লজ্জা পেলাম,আচ্ছা তাহলে আপনি রান্না করেন, কোন কিছুর প্রয়োজন জানাবেন বলেই আমি রুমে চলে আসলাম কিছুক্ষণ পর সে দরজার সামনে এসে বললো,রান্না শেষ খেতে আসুন।

আমি তারপর নিচে গেলাম।সে আমার প্লেটে ভাত বেরে দিচ্ছে আর আমি মনে লাগলাম,যদি এমন একটা স্ত্রী পেতাম তাহলে না কতই সুখী হতাম। সে আমার ধ্যান ভেঙে বললো,কি ভাবছেন এতো?
খাবার যে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে না কিছু না, এইতো খাচ্ছি।

সে অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে খেলো,আর আমি এখনো পর্যন্ত মেয়েটিকে দেখিনি,,, বুঝলাম অনেক খুদা লাগছিলো খাওয়া শেষে সে খাবারগুলা গুছিয়ে রাখলো আমিও তাকে সাহায্য করলাম।মনে ভাবলাম এমন স্ত্রী পেলে সত্তিই আমি ভাগ্যবান হতাম।

আমি তাকে আমার পাশের রুমে ঘুমাতে বললাম আর কোন সমস্যা হলে যেনো ডাক দেয় বলে আমি আমার রুমে চলে আসলাম।শেষ রাতে কিছু একটার শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো।আমি বিছানা থেকে উঠে বাহিরে তার রুমের পাশে গিয়ে দারালাম।আমি যা দেখলাম তা দেখে তো আমি অবাক কারন সে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *