সাপ্তাহিক চাকরির খবর সবার আগে

এদিকে রাজিব বিশাল ধনী পরিবার থেকে উঠে আসা ছেলে

দু’মাস গত হয়েছে রাজিব আর অবন্তীর সম্পর্কের। আজ রাজিবের বার্থডে। হোটেল সোনারগাঁতে ডিনার পার্টির অায়োজন করেছে রাজিব। তাই, অবন্তী আজ সাজ-সজ্জার কাজটা পার্লার থেকেই সেরেছে।

“অবন্তী আর রাজিব দু’জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অবন্তীর গ্রামের বাড়ি যশোর। ঢাকায় সে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। হলে থাকাটা সে তার জন্য নিরাপদ মনে করে না।
এদিকে রাজিব বিশাল ধনী পরিবার থেকে উঠে আসা ছেলে। গুলশান, ধানমন্ডি ও বনানীতে তাদের বাসা রয়েছে। তবে তারা পরিবারসহ গুলশানেই থাকে।”

“সকালে রাজিব হঠাৎ ফোন দিয়ে বলল, অবন্তী! আজ আমার জন্মদিন। তাই, হোটেল সোনারগাঁতে ডিনার পার্টির অায়োজন করেছি। তুমি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ রেডি হয়ে থাকবে। আমি এসে তোমাকে নিয়ে যাবো। তারপর অবন্তীকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রাজিব ফোন কেটে দেয়।

অবন্তী বার্থডে গিফট কি নেবে বুঝতে না পেরে দু’টি গোলাপ ফুল কিনে নেয়। আর সাদা কাগজে একটা কবিতা লিখে খামে ভরে গোলাপ ফুল সহ দু’টো প্যাকেটিং করে। তারপর দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষ করে পার্লারে যায়।”

অবন্তী সেই কখন সেজেগুজে বসে আছে। অথচ রাজিব অাসার নাম নেই। অবন্তী বেলকনিতে এসে বসলো। রাজিব আসলে গাড়ির হর্ণ বাজবে। দক্ষিণা বাতাস অবন্তীর দেহ-মন ছুঁয়ে গেল। অবন্তী হারিয়ে গেল স্মৃতির পাতায়।

“সেদিন অবন্তীর প্রথম ভার্সিটিতে অাগমন। গেটের সামনেই রাজিবের সাথে চোখাচোখি হয় তার। রাজিব ‘ভক্সওয়াগন পোলো’ এ জাতীয় একটা গাড়ি থেকে নামছিলো। গায়ে চকচকে আকাশি কালারের শার্ট।

প্রথম দেখাতেই কেমন যেন তার চোখ চুম্বকের মত আটকে যায়।তারপর তাড়াতাড়ি নিজেকে সামলে নিয়ে ভার্সিটিতে ঢুকে যায়। এরপর বেশ কয়েকদিন আর রাজিবের সাথে দেখা হয়নি।

হঠাৎ একদিন দুপুরে বাজার করে ফেরার পথে অবন্তীর সামনে এসে থামে ‘ভক্সওয়াগন পোলো’ গাড়িটি। গাড়ি থেকে নামতে নামতে রাজিব বলে, “হ্যায়! আমি রাজিব মেহতাজ।”

লুন না আমার সাথে। আমি আপনাকে নামিয়ে দেব। এত বাজার নিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছেবন্তী কিছু না ভেবেই গাড়িতে উঠে বসলো। তার উপর ক্রাশ বলে কথা! সেদিন দু’জনের আর কোনো কথা হয়নি। অবন্তী’কে নামিয়ে দিয়ে রাজিব চলে গেল।

তারপর থেকে প্রায়ই কথা হয়। সরাসরি, মোবাইফেইসবুকে, ইমুতে। ধীরে ধীরে দু’জনই দু’জনের খুব কাছে চলে আসে।

একদিন রাজিব অবন্তী’কে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। অবন্তী এত বিশাল আলিশান বাড়ী দেখে অবাক হয়ে যায়। কিন্তু আরো বেশি অবাক হয়, যখন দেখে পুরো বাড়িতে একজন মানুষও নেই।

রাজিব’কে জিজ্ঞেস করলে সে বলে, সবাই যার যার কাজে বের হয়ে গেছে। তারপর আর কখনো রাজিবের সাথে অবন্তীর কোথাও যাওয়া.

ড়ির হর্ণের আওয়াজ কানে যেতেই অবন্তী বাস্তবতাই ফিরে আসে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত আটটা বাজে। নিশ্চয় রাজিব এসে পড়েছে। কিন্তু এতরাতে একটা ছেলের সাথে একা একা বের হতে অবন্তীর মন সায় দিচ্ছে না। তারপরেও মনের উপর জোর দিয়ে অবন্তী বের হয়ে আসল।

বাহিরে এসেই দেখে রাজিব গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অবন্তী কিছু না বলেই চুপচাপ গাড়িতে উঠে বসলো। রাজিবও আজ কিছু বলছে না। গাড়ি ছুটে চলেছে আপন গতিতে। চলছে তো চলছেই….।

হঠাৎ নির্জন এক জায়গায় এসে গাড়িটা আচানক থেমে যায়। অবন্তী চমকে উঠে রাজিবের দিকে তাকায়। রাজিব হাসিমুখে বলে, “হয়ত ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা হয়েছে। তুমি বসো। আমি দেখছি।” এই বলে রাজিব গাড়ি থেকে নেমে যায়।

প্রায় দশ মিনিট হয়েছে রাজিব আসছে না। অবন্তীর কেমন যেন ভয় ভয় করছে। এই জায়গাটা এমন অন্ধকার যে, আশেপাশের কিছুই দেখা যাচ্ছে না। অবন্তী গাড়ির ভিতর থেকেই কয়েকবার ডাক দিলো। কিন্তু কোনো জবাব আসলো না।

অবন্তী এবার সাহস করে গাড়ী থেকে নামলো। বাহিরের বিশ্রি একটা গন্ধ তার নাকে এসে লাগলো। আশেপাশে কিছু মানুষের চাপা হাসির শব্দও সে শোনতে পেলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো, রাজিব কাজ করছে।

বন্তী এগিয়ে গেলো। এই জায়গাটা তার কাছে বেশি সুবিধার মনে হচ্ছে না। ঢাকার মত ব্যস্ত শহরে এমন নিরিবিলি জায়গা আছে তা অবন্তীর জানা ছিলো না। আজকে প্রথম সে ব্যস্ত শহর ঢাকাকে ঘুমন্ত দেখলো।

রাজিব কাজ শেষ হয়েছে? আমার না ভয় করছে।” এই কথা বলে অবন্তী রাজিবের হাত ধরলো। ওমনি বিদ্যুতের গতিতে সে ছিটকে পড়লো.

কয়েক সেকেন্ডের জন্য অবন্তী সেন্সলেস হয়ে গেল। তারপর বিষয়টি মাথায় আসতেই অবন্তী ফিরে তাকালো। যা দেখলো তাতে অবন্তীর দম বন্ধ হওয়ার অবস্থা… । কতক্ষণের জন্য সে থমকে গেলো।

রাজিব বিকট অট্টহাসি দিয়ে অবন্তীর দিকে এগিয়ে আসছে। তার চোখ দু’টো ঝুলে আছে গলা পর্যন্ত। গলাটা মাথা থেকে আলাদা হয়ে শূণ্যে ভাসছে। আর সাড়া শরীর কেমন যেন কাঁটায় ভরপুর হয়ে আছে।” রাজিব যেই না অবন্তী’কে ধরতে যাবে ওমনি অবন্তী চিৎকার দিয়ে বেহুশ হয়ে যায়।”

সকাল বেলা অবন্তী নিজেকে হাসপাতালের বেডে আবিস্কার করে। কে নাকি অবন্তীকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে তুলে আনে। কিন্তু সেখানে কোনো গাড়ি ছিলো না।

পরদিন অবন্তী ভার্সিটিতে গিয়ে আরো বেশি অবাক হয়। কেহই নাকি রাজিবকে চেনেনা। অথচ অবন্তী নিজে তাদের সাথে রাজিবকে ক্লাস করতে দেখেছে। রাজিবের বাড়ির খবর নিয়ে জানা যায়, এখানে এ-ধরনের কোনো বাড়িই নেই।

অবন্তীর মাথা ঘুরছে। সে কোনোভাবেই সমীকরণ মিলাতে পারছে না। তার মনে একটাই প্রশ্ন- এই রাজিব কে? আর কেনই বা আমার কাছে এসেছিলো? ভাবতে ভাবতেই তার নজর পড়ে বালিশের উপর।

বালিশে একটা চিঠি রাখা আছে। কাঁপা কাঁপা হাতে অবন্তী চিঠি নিয়ে দেখে তাতে লেখা- “রাজিব মেহতাজ”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *